logo

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ/দিনাজপুরে বাদ সুপারিশপ্রাপ্ত ১২৩ জন, কিছু করার নেই বলছে শিক্ষা অফিস

দিনাজপুরে বাদ সুপারিশপ্রাপ্ত ১২৩ জন, কিছু করার নেই বলছে শিক্ষা অফিস
দিনাজপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক অধিদপ্তরের লোগো। ছবি: এশিয়া পোস্ট কলাজ

দিনাজপুর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১২৩ জন বাদ পড়েছেন। জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বলা হচ্ছে, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাদের কিছু করার বা বলার নেই।

সুপারিশপ্রাপ্তদের গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। জেলার ৪৮১ জনের ৩৫৮ জন নিয়োগপত্র পান। ১২৩ জন নিয়োগপত্র পাননি।

গত শনি ও রোববার নিয়োগবঞ্চিতরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন।

জেলা প্রশাসকের বাসভবনে কথা বলতে গেলে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম পরে দেখা করবেন বলে জানান। তারা সেখান থেকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে দেখা করে নিয়োগ থেকে কেন বঞ্চিত করা হয়েছে তা জানতে চান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চুড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়। দিনাজপুর জেলায় চুড়ান্তভাবে পাস করেন ৪৮১ জন। ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এম শাহজাহান সিদ্দিক তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপটেষ্ট করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে নিয়োগপত্র ছাড়া হয়।

নিয়োগে দিনাজপুরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চুড়ান্ত ভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়া ৪৮১ জনের মধ্যে ৩৫৮ জন নিয়োগ পান। ১২৩ জন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে কাহরোলে ৯ জন, খানসামায় ১৩ জন, ঘোড়াঘাটে ১৭ জন, চিরিরবন্দরে ১০ জন, সদরে ২ জন, নবাবগঞ্জে ৮ জন, পার্বতীপুরে ২ জন, ফুলবাড়ীতে ৯ জন, বিরলে ১৮ জন, বোচাগঞ্জে ১১জন, হাকিমপুরে ৩ জন, বিরামপুরে ২ জন ও বীরগঞ্জে ১৯ জন।

নিয়োগবঞ্চিত হওয়া বিরল উপজেলার সামসুন নাহার ও বোচাগঞ্জ উপজেলার সুমন সরকার, মো. সেলিম রেজাসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিকেদক।

এই নিয়োগবঞ্চিতরা দাবি করেন, তারা রাজনীতি, রাষ্ট্রদ্রোহী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের নামে কোনো মামলা নেই। তবু নিয়োগপত্র আসেনি।

এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে তাদের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে তারা আরও বলছেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর কোন কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি জানার অধিকার আছে। তারা বাদ পড়ার কারণ জানতে চান। উপজেলা ভিত্তিক কাটমার্কের মাধ্যমে তাদেরকে যে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তা একজন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী জানেন। সেই প্রক্রিয়ায় মেধাক্রমে নিয়োগ না পাওয়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুজ্জামান বলেন, আমরা অবগত নই। আমাদেরকে পরীক্ষাতেও ডাকা হয় না। কী কারণে বাদ পড়েছে মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। আমাদের কিছুই করার বা বলার নেই।