পাশের রুমে ঘুমিয়ে স্ত্রী, অন্য কক্ষে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছেন স্ত্রী, অন্যদিকে আরেক ঘরে ১৫ বছর বয়সি এক মাদ্রাসাছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইমামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি উপজেলার বটেরতল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি টুকেরবাজার মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি দক্ষিণ বুড়দেও দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে চালের বস্তা ও বাজারের ব্যাগ বহনে সাহায্যের কথা বলে ওই ছাত্রকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান মুফতি নোমান। বাড়িতে পৌঁছে তিনি নিজের স্ত্রীর সঙ্গে না ঘুমিয়ে ছাত্রটিকে নিয়ে আলাদা একটি কক্ষে ঘুমান। গভীর রাতে ছাত্রটিকে শরীর ও পা টিপে দিতে বলেন এবং একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরদিন শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী বালকটি বাড়ি ফিরে তার মাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। এরপর তার মা স্থানীয় মুরুব্বিদের বিষয়টি অবগত করেন এবং আজ (শনিবার) কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নোমান বিন রব্বানীর বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের ন্যক্কারজনক কাজের রেকর্ড রয়েছে। এর আগের কর্মস্থল ইসলামপুর জামে মসজিদে থাকাকালীন সময়েও তিনি একাধিক ছাত্রকে বলাৎকার করেন। সেই সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ওই মসজিদ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল বলে ইসলামপুর পঞ্চায়েতের একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অভিযুক্ত নোমান বিন রব্বানী। তিনি একে ‘আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপবাদ’ বলে দাবি করেন। তার দাবি, ওই ছাত্র নিজের আগ্রহেই তার বাড়িতে গিয়েছিল এবং সে গেস্ট রুমে ও তিনি নিজে স্ত্রীর রুমে রাত কাটান।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনী এশিয়া পোস্টকে জানান, ঘটনাটি তারা জেনেছেন। কিন্তু লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
