গাজীপুরে বনে অগ্নিসংযোগকারীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ও আশপাশের শাল-গজারি বনে লাগাতার আগুনের ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিসংযোগকারীদের ধরতে বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার পাঁচটি বিটের ১৫টি স্থানে আগুন নেভানো হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে মাওনা, পাঁচলটিয়া, কর্নপুর, বিন্দুবাড়ি, রাথুরা, গাজিয়ারণ ও পোষাইদ মৌজা। প্রায় ২০ বনকর্মী এ কাজে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বনে আগুন দিচ্ছে। তাদের ধারণা, পোড়া কাঠ সংগ্রহ এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যেই সন্ধ্যার পর আগুন লাগানো হয়।
বন বিভাগ জানায়, স্থানীয়দের সচেতন করতে মসজিদে জুমার নামাজের আগে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট ছোট সভার মাধ্যমে বন সংরক্ষণ ও আগুন প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে জানানো হচ্ছে। কোনো স্থানে আগুন দেখা গেলে দ্রুত খবর দেওয়া এবং প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বন কর্মকর্তারা বলেন, বনের আশপাশের বাসিন্দারা শুরুতেই উদ্যোগ নিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুকনো পাতা সরিয়ে ফেলা বা ফায়ার লাইন তৈরি করলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। প্রয়োজনে ছোট সবুজ ডাল ব্যবহার করেও আগুন নেভানো যায়। তবে এসব কাজে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ এখনও কম।
পরিবেশবিদদের মতে, শাল-গজারি বন কেবল কাঠের উৎস নয়; এটি স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মাটির উর্বরতা বজায় রাখা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বারবার আগুনে এই বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হচ্ছে। এক জায়গার আগুন নেভাতে গিয়ে অন্য জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করে ধরিয়ে দিলে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।