শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শ্রমিককে হাত বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইটভাটায় কাজ না করায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক শ্রমিককে দোকানঘরের আড়ার সঙ্গে বেঁধে পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নামে এক মাঝি পলাতক রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভিরহাট এলাকার স্লুইসগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী কালু মিয়া কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ইসমাইলের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন বলে জানা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কালু নামে ওই শ্রমিকের দুই হাত দোকানঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে বাঁধা হয়। এরপর ইসমাইল মাঝি একটি লাঠি হাতে ওই শ্রমিককে পেটাচ্ছে। এ সময় শ্রমিককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া হয়। পেটানোর মাঝে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ইসমাইলের সঙ্গে কালু চুক্তিবদ্ধ হয়। তিনি টাকাও নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রামের ইটভাটার শ্রমিকের কাজ করত। কিছুদিন আগে কালু অসুস্থতার কারণে বাড়িতে চলে আসে। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেয়। ঘটনার সময় কালুকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ইসমাইল লোকজন নিয়ে তাকে ধরে আনে। পরে ঘটনাস্থলে ইসমাইলের অফিসে (দোকানঘর) দুই হাত বেঁধে নির্যাতন করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরে কালুর পরিবর্তে তার ভাইদের দিয়ে কাজ করে দিতে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। নির্যাতনে কালু অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়াবাড়ি করবে না বলে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কালু বলেন, ‘আমাকে ধরে এনে হাত বেঁধে মারধর করা হয়েছে। পরে আমার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ওকে কাজের জন্য বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে কাজ করছিল না। দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখলেও বেশি মারধর করা হয়নি। ভয় দেখানোর জন্য সামান্য বেত্রাঘাত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ভিকটিমকে আমরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’