চোরাকারবারিদের ধরতে গিয়ে পিটুনি খেল ৬ পুলিশ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাকারবারি ধরতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। এতে দুইজন উপ-পরিদর্শক ও এক সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের তেরতোফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন—ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল, শওকত, সহকারী উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম, সদস্য শামীম, হিমেল ও খায়রুল। এছাড়াও শ্যামল নামের স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটোগ্রাফার আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানার পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় হামলাকারী ১৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, পাঁচটি ভারতীয় গরু, পাঁচ বোতল ভারতীয় মদ, ২০ পিস ইয়াবা, একটি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল ও একটি টাকা গুণার মেশিন উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—উপজেলার ডাইয়ারকান্দা এলাকার মামুন মিয়া, আল আমিন, তেরোতোফা এলাকার সারফুল ইসলাম, রুনেল সরকার, হাবিবুর রহমান, মো. আব্দুল জলিল, আদিয়া খাতুন, শাহাতন আক্তার, মাজেদা খাতুন, পারভিন আক্তার, আদির উদ্দিন, মাহমুদুল ইসলাম সায়েম, কৃষ্টপুর এলাকার মোশারফ মিয়া, আমগড়া এলাকার কাউসার আহমেদ, রায়পুর এলাকার আফাজ উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু, চিনি, জিরা ও কসমেটিকসসহ নানা পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে নিয়ে আসে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। ভারতীয় গরু চোরাচালান ও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের প্রস্তুতি চলছে, এমন গোপন খবরে মঙ্গলবার বিকালে এসআই আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল তেরতোফা গ্রামে সারফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় চোরাকারবারিরা চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে জড়ো করে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। কিল, ঘুসি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে ডিবির ৬ সদস্যকে আহত করে। এছাড়াও হামলায় শ্যামল বিশ্বাস নামে স্থানীয় দৈনিকের একজন ফটোগ্রাফার আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।