logo
Advertisement

দুই মাসে ব্রহ্মপুত্র-দুধকুমারের ভাঙনে ভিটে হারাল ২৪০ পরিবার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজকুড়িগ্রাম
দুই মাসে ব্রহ্মপুত্র-দুধকুমারের ভাঙনে ভিটে হারাল ২৪০ পরিবার
ব্রহ্মপুত্র-দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক বসতবাড়ি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বর্ষা এলেই তিস্তাপাড়ের মানুষের মনে ফিরে আসে ভাঙন-আতঙ্ক। নদীর পানি বাড়ে, আর তার সঙ্গে বাড়ে ভাঙনের ভয়। চলতি বর্ষায় সেই ভয় এবারও বাস্তবে রূপ নিয়েছে। শুধু জুলাইয়ের ১ থেকে ১৬ তারিখের মধেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় তিস্তার ভয়াল গ্রাসে বিলীন হয়েছে অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি। চোখের সামনে ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। অন্যদিকে সদরের যাত্রাপুরে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের ভাঙনে দুই মাসে ২৪০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে।

বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদ ও পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদী প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে আসছে জনপদের দিকে। কখন শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়—সেই শঙ্কায় দিন-রাত চরম উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার।

শুধু তিস্তাই নয়, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকার প্রায় ৪০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা ছবুর আলী বলেন, আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভেঙেছে। ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন ঠেকানোর স্থায়ী ব্যবস্থা কখনো পাইনি। এভাবে আর কতদিন?

একই এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। আমরা ত্রাণ চাই না; এমন স্থায়ী ব্যবস্থা চাই যাতে আর কোনো পরিবারকে ভিটেমাটি হারাতে না হয়।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা ভাঙতে ভাঙতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীতে চলে যাবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম হওয়ায় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ মিললেও নদীভাঙন রোধে কোনো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, তিস্তার পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই সীমিত।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, গত দুই মাসে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের ভাঙনের কবলে পড়ে আমার ইউনিয়নের ২৪০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। তাদের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলার প্রায় ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। অনেক স্থানে ইতোমধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।