স্কুলে ২ শিক্ষকের মারামারি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ২ শিক্ষকের ধস্তাধস্তি ও মারামারির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। পরে জানা গেছে, মারামারিতে জড়ানো দুজন শুধু সহকর্মী নন, তারা স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বিদ্যালয়েই এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মারামারিতে জড়ান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম।
প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের ভাষ্য, ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকেন। তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। এখনো তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।
আফজাল হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ চলছে। সেই বিরোধ কখনো কখনো বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ১০-১২ দিন আগে বিদ্যালয়েই মারামারি হয়। তিনি সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করান। এর আগেও দুই-তিনবার বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’
বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তবে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের বক্তব্য জানতে তার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয়রা জানান, যে বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদানের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের চর্চা হওয়ার কথা, সেই বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষকদের মারামারির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে।
