১৭ দিন পর খালে মিলল চুরি হওয়া অটোরিকশা, উধাও ব্যাটারি ও মোটর

চুরি হওয়া অটোরিকশাটি টানা ১৭ দিন খুঁজেও কোনো সন্ধান পাননি মালিক আনারুল্লা। অবশেষে লক্ষ্মীপুরের কাপ্তান লিংক এলাকার ওয়াবদা খালে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি পানির নিচে অটোরিকশার বডিটি দেখতে পান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেটি উদ্ধার করেন। তবে গাড়িটির ব্যাটারি, মোটর, চাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু যন্ত্রাংশ উধাও।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল রব বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার হওয়া অটোরিকশার মালিক মামলা করতে রাজি না হওয়ায় গাড়িটি তার জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তান লিংক এলাকার ওয়াবদা খাল থেকে অটোরিকশার বডিটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ দিন আগে বাড়াইপুর জাগিরদার বাড়ির বাসিন্দা আনারুল্লার অটোরিকশাটি গভীর রাতে চুরি হয়। গাড়িটিই ছিল তার আয়ের প্রধান সম্বল। চুরির পর তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। তবে নানা জায়গায় খুঁজেও এত দিন অটোরিকশাটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সোমবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল ও ফারুক নৌকা নিয়ে ওয়াবদা খালে মাছ ধরতে যান। খালের পানি কমে যাওয়ায় টর্চের আলোতে পানির মধ্যে অটোরিকশার একটি অংশ দেখতে পান তারা। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা গিয়ে নিশ্চিত হন যে এটি আনারুল্লার চুরি যাওয়া অটোরিকশা।
পরে সবার উপস্থিতিতে খাল থেকে অটোরিকশার বডি উদ্ধার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ না থাকায় গাড়িটি এখন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। স্থানীয়দের ধারণা, সব যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার পর কঙ্কালসার বডিটি খালে ফেলে রেখে গেছে চোরচক্র।
ভুক্তভোগী আনারুল্লা জানান, কাপ্তান লিংক এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালু হওয়ার পর তার বাড়ি থেকে এর আগেও দুটি অটোরিকশার ব্যাটারি ও একটি চাকা চুরি হয়। তিনি বলেন, আমার বাড়ি থেকে একের পর এক জিনিস চুরি গেছে। এবার পুরো গাড়িটাই নিয়ে গেছে। ১৭ দিন পর বডি পেয়েছি, কিন্তু ব্যাটারি, মোটর ও চাকা নেই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে আনারুল্লার অভিযোগ অস্বীকার করে চা-দোকানি ইনা বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
এদিকে অটোরিকশা উদ্ধারের পর এলাকায় চুরি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চুরির রোখ টানতে রাতের নজরদারি বাড়ানো এবং আগের চুরির ঘটনাগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজায়েত উল্লাহ বলেন, আমাদের এলাকাটি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ইদানীং অটোরিকশার ব্যাটারি-মোটরসহ বাসাবাড়ির জিনিসপত্র চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।


