এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনের পর নির্বাচন অফিসের ১৪৩ কর্মীর নিয়োগ চুক্তি বাতিল

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের জন্য কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
জনবল নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং চুক্তির শর্ত ও প্রযোজ্য বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয় উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৯ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে চুক্তি বাতিলের এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো কার্যসম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের জন্য কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটি ১ জুলাই থেকে জনবল সরবরাহ করে আসছিল।
চুক্তির আওতায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও পর্যালোচনায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বৈধতার পরিপন্থি বিষয় এবং চুক্তির শর্ত ও প্রযোজ্য ক্রয় আইন-বিধির সঙ্গে অসংগতির বিষয় উঠে আসে।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুযায়ী গঠিত পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনার আলোকে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর আগে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়োগে পাঁচজন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তাপ্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পায় কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তি চাকরি পেতে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি একই প্রতিবেদনে উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া কর্মী বাছাই এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি কে এস এফ ট্রেডার্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব দেয়।
