logo

১১৯ শিশু ফিরল বিদ্যালয়ে, দেবহাটা এখন শিশুশ্রমমুক্ত

১১৯ শিশু ফিরল বিদ্যালয়ে, দেবহাটা এখন শিশুশ্রমমুক্ত
দেবহাটাকে শিশুশ্রম ও স্কুলবহির্ভূত শিশুমুক্ত ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলাকে শিশুশ্রম ও স্কুলবহির্ভূত শিশুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শিশুশ্রমে জড়িত ও ঝরে পড়া ১১৯ শিশুকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ (দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রাম) ও ‘সুশীলন’-এর সহযোগিতায় পারুলিয়া ফুটবল মাঠে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেবহাটাকে শিশুশ্রমমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, যখন দেখি কোনো শিশু ইজিবাইক বা ভ্যান চালাচ্ছে, তখন খুব কষ্ট লাগে। শিশুর প্রকৃত ঠিকানা কর্মক্ষেত্র নয়, বিদ্যালয়। শিশুশ্রম তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই শুধু ঘোষণার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; নতুন কোনো শিশু যেন শ্রমে না জড়ায় এবং যাদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তারা যেন পড়ালেখায় টিকে থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

আয়োজকরা জানান, উপজেলার শিশুশ্রমে জড়িত ৮৭ জনের মধ্যে ৭৯ জন এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ৪০ শিশুকে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান এবং নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, নোয়াপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোলায়েম হোসেন, দেবহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, সুশীলনের উপপরিচালক শেখ মনিরুজ্জামান ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দেবহাটা এপি ম্যানেজার মিল্টন সিং। এ ছাড়া শিশুশ্রম থেকে মুক্ত হওয়া শিশু আল আমিন হোসেন, শাহিনুর রহমান ও আয়শা খাতুনও অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্য, অভিভাবক এবং শিশু ও যুব ফোরামের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।