logo

৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে এক ঘণ্টা

৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে এক ঘণ্টা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল, কাঁচপুর ও বরপা এলাকা পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। তীব্র যানজটের মুখে চালক থেকে শুরু করে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য মহাসড়কে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে পাঁচ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে ঘণ্টার সমান। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। 

জানা গেছে, নির্বাচনের আগে গ্রামের বাড়ি ফেরায় মানুষের চাপ বৃদ্ধি এবং ভোরে পণ্যবাহী একটি গাড়ি উল্টে যাওয়ার ফলে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ধীরগতিতে যানবাহন চলায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়  ট্রাফিক পুলিশ নির্বাচন ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, কাঁচপুর, মদনপুর এবং বরপা এলাকায় যানজটের তীব্রতা বেশি দেখা গেছে। এতে করে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

রাস্তায় আরিফ হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, সকালে মদনপুর যাওয়ার জন্য শিমরাইল মোড় থেকে বাসে উঠেছিলাম। কিন্তু মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে বাস থেকে নেমে বাসায় চলে যাচ্ছি।

শিউলি নামের এক কর্মী বলেন, যানজটের কারণে হেঁটেই কাজে যেতে হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে তবে এ ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই।

সাইফুল হাসান নামের এক বাসচালক বলেন, সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর মোড় আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে গেছে। রাস্তায় জ্যাম এতই যে কাঁচপুর মোড়ে এসে বাস আর সামনে আগানোর মতো অবস্থা নেই। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। বাকি পথ পার হতে আর কত ঘণ্টা লাগে তা জানি না।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের দিকে রওনা হওয়ায় যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু নির্বাচনি দায়িত্বপালনে বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য নির্বাচনি মাঠে থাকায় সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে হাতেগোনা কয়েক ট্রাফিক সদস্য।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সাহাবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলমান সংস্কারকাজের কারণে সেখানকার যানজটের প্রভাব এই সড়কেও পড়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে আমাদের বেশিরভাগ সদস্য চলে যাওয়ায় জনবল সংকটে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের থানায় মাত্র চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। বাকিরা সবাই নির্বাচনি ডিউটিতে। তবুও আমরা যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জুলহাস এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রায় সব সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা শিমরাইলে মাত্র দুইজন ডিউটি পালন করছি। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।