৭১ ও ২৪ এর পরাজিত শক্তি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তির মধ্যে ঐক্য রয়েছে এবং তারা বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ার মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করতে পারেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তিরও বাংলাদেশের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতে সময় লাগছে।
তিনি বরেণ, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর পরাজিত শক্তির মধ্যে ঐক্য নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা এমন ঐক্য বারবার দেখেছি। সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই আজ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। মাত্র সাত মাস বয়সী একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার অভিপ্রায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ঘটনা ঘটছে।
কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুষ্টিয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। এখানকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি ‘কচুর পাতার পানির মতো’ সংগঠন নয়; কুষ্টিয়ায় রাজপথে বিএনপির রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দিতে হবে।
তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বড় বাজারে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নিতে হবে। এর মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান আরও দৃশ্যমান করতে হবে, যাতে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত সংগঠন’ ঐক্যবদ্ধভাবে কুষ্টিয়াকে অস্থিতিশীল করতে না পারে।
সভায় দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা দলের অভ্যন্তরের অনৈক্য ও বিভেদের বিষয় তুলে ধরে সাংগঠনিকভাবে তা কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, জেলা যুবদলের সভাপতি ফুহাদ রেজা ফাহিম ও শহর বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
