logo

অজ্ঞাত রোগে শুকাচ্ছে মরিচগাছ, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

অজ্ঞাত রোগে শুকাচ্ছে মরিচগাছ, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক
জামালপুরের মাদারগঞ্জের বিনোদটঙ্গী এলাকায় অজ্ঞাত রোগে শুকিয়ে যাচ্ছে মরিচগাছের পাতা ও ডালপালা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জামালপুরের মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ। সবেমাত্র খেতে ফলন আসতে শুরু করলেও একের পর এক গাছ মরে যাওয়ায় চরম আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ফসল রক্ষায় বারবার যোগাযোগ করা হলেও কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা খেত পরিদর্শনে আসেননি।

উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচখেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিনোদটঙ্গী এলাকায় সাতজন কৃষক ‘বগি’, ‘পিউর’ ও ‘প্রিমিয়াম’ জাতের মরিচ চাষ করেছেন। মাঠজুড়ে গাছে গাছে মরিচ ধরা শুরু হতেই দেখা দেয় বিপত্তি। কোনো কোনো গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক গাছ পুরোপুরি মরে যাচ্ছে। ফসল বাঁচাতে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলেও কোনো সুফল মিলছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করতে তার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে গাছে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় বাজার থেকে ওষুধ এনে দিচ্ছেন, তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। কৃষি অফিস থেকেও কেউ খোঁজ নিতে আসেননি বলে জানান তিনি।

কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, রোগের কারণ বুঝতে না পেরে আন্দাজে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। দ্রুত সঠিক রোগ শনাক্ত করে পরামর্শ না দিলে তাদের পুরো বিনিয়োগই জলে যাবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও হঠাৎ এমন মড়কে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। তাই দ্রুত রোগ শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কর্মকর্তাদের অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া বলেন, একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি সরেজমিনে যেতে পারেননি।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, কৃষকদের অফিসে এসে পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে মরিচগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে বা কৃষি বিভাগ থেকে কবে নাগাদ খেত পরিদর্শনে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।