দুই লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

যৌতুকের দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ মোল্লাকে (৩৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরহাদ মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার বাস্তপট্টি গ্রামের হাসিনা বেগম ছিলেন ফরহাদ মোল্লার স্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তার ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে হাসিনার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন ফরহাদ। তবে সামর্থ্য না থাকায় হাসিনার পরিবার সেই টাকা দিতে পারেনি।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। এরপর ২০২৩ সালের ৩১ মে রাত থেকে ১ জুন সকালের কোনো একসময়ে হাসিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পরে ফরহাদের ঘরের সিলিংয়ে হাসিনার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা মছলেম খলিফা। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে তার সন্দেহ হয়। ঘটনার দিনই তিনি নগরকান্দা থানায় ফরহাদ মোল্লাকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। এরপর ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আদালত ফরহাদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।



