কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার ও জামায়াতের সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি শতাধিক

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় এক পক্ষের ২৩ জন ও অপর পক্ষের ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন মামলা দুটি নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় হাফিজুর রহমান জিহাদী, তানভীর, আলী আহসান মুজাহিদ ও মুস্তাফিজুর রহমান পলাশসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গণঅধিকার পরিষদের প্রতিবাদ সভা চলাকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও শাবল দিয়ে মারধরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহাগ আহমেদ তুফান, সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেনসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুত আহত তুফান ও মোসাদ্দেক হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তাছাড়া গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতিসহ মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে অন্য মামলাটি করেন। এতে গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, দুটি মামলারই তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।



