logo

উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি সিরাজগঞ্জের ট্রাক চালকদের বিশ্রামাগার

উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি সিরাজগঞ্জের ট্রাক চালকদের বিশ্রামাগার

উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য নির্মিত আধুনিক পার্কিং সুবিধাসম্পন্ন বিশ্রামাগার উদ্বোধনের এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো চালু হয়নি। সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে পাঁচলিয়ায় নির্মিত এই বিশ্রামাগারটি সেবা খাত থেকে সরিয়ে লিজ খাতে নেওয়ার উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাকচালক ও স্থানীয়রা।

২০২০ সালে পাঁচলিয়ায় ১৩ দশমিক ৫৬ একর জায়গায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের প্রথম এ ধরনের প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্রামাগারটির উদ্বোধন করেন। অসমাপ্ত কাজ শেষে পুরো প্রকল্প শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

বিশ্রামাগারটিতে শতাধিক চালকের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন দ্বিতল ভবন, ক্যান্টিন, বিনোদন কেন্দ্র, গোসলখানা, নামাজের জায়গা, প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষ এবং আনসার বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০০টি পণ্যবাহী গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়াশ জোন, দুটি লেক, সবুজায়ন ও নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্প শুরুর পরিকল্পনায় চালকদের জন্য সব সেবা বিনামূল্যে রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এটিকে লাভজনক প্রকল্প হিসেবে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাকচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আবুল কালাম বলেন, এই বিশ্রামাগার চালু হলে আমরা নিরাপদে গাড়ি রেখে বিশ্রাম নিতে পারতাম। কিন্তু লিজ দিলে সবকিছুর জন্য টাকা দিতে হবে, তখন আমাদের এখানে আসার কোনো সুবিধা থাকবে না।

আরেক ট্রাকচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের পাশে নিরাপদ জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশেই গাড়ি রেখে বিশ্রাম নিতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, সরকার এই প্রকল্প করেছে চালকদের সেবার জন্য। লিজ দিলে এখানে ব্যবসা চলবে, সেবা পাওয়া যাবে না।

জেলা ট্রাক শ্রমিক সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এই প্রকল্প কোনোভাবেই লিজ দেওয়া উচিত নয়। লিজ দেওয়া হলে চালকরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, বিশ্রামাগারটি দ্রুত চালু করা গেলে চালকরা সঠিক বিশ্রাম নিতে পারবেন, ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, প্রকল্পটি এখনো কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। লিজের মাধ্যমে পরিচালনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।