মৃত্যুর দুই বছর পর বিস্ফোরক মামলায় যুবলীগ নেতা আসামি

মৃত্যুর দুই বছর পর বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি শামীম মাহবুবকে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার একটি নাশকতার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে ৬০ নম্বর আসামি করা হয়।
তবে পুলিশের দাবি, ড্রাফটিং বা মামলার খসড়া তৈরির সময় অসাবধানতাবশত ভুলটি হয়েছিল, যা আদালতে পাঠানোর আগেই সংশোধন করা হয়েছে।
নিহত শামীম মাহবুবের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসীবাগ এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে শামীম মাহবুব ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সে হিসেবে ঘটনার প্রায় দুই বছর আগেই তার মৃত্যু হয়।
রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৬৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে রূপগঞ্জের গুতিয়াব এলাকার ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ের একটি ব্রিজের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও রাষ্ট্রবিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ মামলাটি করা হয়।
মামলায় মৃত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এশিয়া পোস্টকে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শামীম মাহমুদ দুই বছর আগে মারা গেছেন। ড্রাফট করার সময় নামটি ভুল হয়েছিল। একই নামে আরেকজনের নাম ছিল। তার পিতার নামও ঠিক ছিল। ডান পাশে যে নামের অংশ থাকে, সেখানে ভুল হয়েছিল। পরে বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে।
মামলার নথি তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি মামলা হলে এফআইআরের তিনটি কপি হয়। একটি থানায় থাকে, একটি আদালতে যায় এবং আরেকটি পুলিশ কার্যালয়ে আসে। আদালতে যাওয়ার আগে আমাদের নজরে আসায় ভুলটি সংশোধন করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।
তবে পুলিশ সংশোধনের কথা বললেও, দুই বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম কীভাবে প্রাথমিক খসড়ায় এলো এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি কতটুকু স্বচ্ছভাবে সমাধান হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
