logo

৮ কিলোমিটার খালের অধিকাংশই দখলে, গড়ে উঠেছে বসতি

৮ কিলোমিটার খালের অধিকাংশই দখলে, গড়ে উঠেছে বসতি
খাল দখল করে গড়ে ওঠেছে বসতি। ছবি: সংগৃহীত

দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কুড়িগ্রামের সন্নাসী খাল এখন দখলের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘদিন খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটির বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও চাষাবাদ, কোথাও গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, আবার কোথাও খালের চিহ্নটুকুও মুছে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের সন্নাসী এলাকা থেকে টগরাইহাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল খননের উদ্যোগ নেয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সে সময় তিনি খালটি উদ্ভোদনও করেন। খালটি কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন, স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা এবং স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিয়মিত পরিচর্যা ও পুনঃখননের অভাবে খালটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে পড়ে। বর্তমানে খালের অধিকাংশ অংশ দখল করে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে। অনেক স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা। এমনকি খালের জমি বেচাকেনার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, খালটি দ্রুত উদ্ধার করে পুনঃখনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে জমির পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে দুই পাড়ের হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।

সদরের কাঁঠাল বাড়ী ইউনিয়নের কাশেম আলী জানান, এই খালের উদ্ভোদন করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সে সময় জিয়াউর রহমান নিজেই এসেছেন এখানে। পরে দীর্ঘদিন খনন না হওয়ার কারনে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। অনেকে দখল করে চাষাবাদ করছে।

শফিক নামের একজন বলেন, খালটি খনন করা হলে শত শত কৃষক লাভবান হবেন। সেই সঙ্গে সৌন্দর্য ফিরে আসবে এখানকার। আমরা চাই দ্রুত খালটি খনন করা হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়াতে সন্নাসী খালসহ জেলার মোট ৬টি খাল পুনঃখননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত খালগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় একটি করে এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুটি খাল রয়েছে। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাল খননের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।