logo
Advertisement

সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা
বাড়ছে নদীর পানি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরে কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

টানা বৃষ্টিতে সুরমা নদী ও হাওরাঞ্চলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় প্রদেশের মাউসিনরাম এলাকায় ১৭৭ মিলিমিটার, মাওকিরওয়াত এলাকায় ১৩৫ মিলিমিটার, আর কে এম চেরাপুঞ্জি (সোহরা) এলাকায় ১২০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জি এলাকায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে দিন-রাত বৃষ্টি হচ্ছে, সুরমা নদীর পানিও বাড়ছে। নদীর পানি এভাবে বাড়তে দেখলে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা মনে পড়ে যায়। কখন যে আবার বন্যা হয়ে ঘরবাড়িতে পানি উঠে যায়, সেই আতঙ্কে আছি।

সুনামগঞ্জ শহরতলীর ধারারগাঁও এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, নদী আর আকাশের অবস্থা দেখে ভয় লাগছে। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে সুরমা নদীর পানি ঘোলা হয়ে উঠছে, যা দেখে বোঝা যায় পাহাড়ি ঢল নামছে। এভাবে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হলে নদীর পাড়ের রাস্তাঘাট ডুবে যেতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আরও এক দিন অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সুরমা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে কুশিয়ারা ছাড়া অন্য সব নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি চললে পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় এক হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এবং এক হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

তিনি আরও জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য জিআর চাল ও শুকনো খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে। জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ০১৮৪৭৯৭৮৯৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।