ট্রান্সফরমার চোর ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে একের পর এক সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয়রা রাত জেগে পাহারা দিয়েও কোনোভাবেই এই চোর চক্রকে থামাতে পারছেন না। অতিষ্ঠ হয়ে চোর ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের নন্দনপুর পশ্চিম মাঠ এলাকার কৃষকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকা থেকে শতাধিক সেচ পাম্প ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে সেচ কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধান ক্ষেতগুলো এখন পানির অভাবে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি রাতেই চোরেরা সেচঘরের তালা কেটে পানির মোটর ও ট্রান্সফরমার নিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবারও নতুন পাম্প বসাচ্ছেন, কিন্তু সেগুলোও চুরি হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চরাঞ্চলে ফসলে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়। সময়মতো পানি না পেলে ফসল ফলানো অসম্ভব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ওইসব এলাকায় সোলার প্যানেল বা পাতকুয়া যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, চুরি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে তারা নিয়মিত সভা ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাঠের সেচযন্ত্র ও ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে এই দপ্তরের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
জানাতে চাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, শাজাহানপুর এলাকার চুরির ঘটনাগুলো সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। নতুন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।