রংপুরে চিকিৎসককে মারধর, মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে রোগীর মরদেহ আটকে রেখে দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অপরদিকে মরদেহ না পেয়ে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় মরদেহ হস্তান্তর করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
হাসপাতাল ও রোগীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে রমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিসিউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অক্সিজেন না দেওয়া ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের ছোট ছেলে রিফাত হোসেনের সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, ওই সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী ও ইনডোর অফিসার ডা. রাকিব হাসানকে অমানবিকভাবে মারধর করে রোগীর স্বজনরা। এর প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মরদেহ আটকে রেখে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে কর্মবিরতি ও আন্দোলন শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আসিফ বলেন, কোনোরকম কথাবার্তা ছাড়াই সরাসরি ডাক্তারের ওপর হামলা করা হয়েছে। আহত ডা. নাইম এখন নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি আছেন। যেখানে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নেই, সেখানে আমরা কীভাবে সেবা দেব? আমরা মরদেহ আটকাইনি, আমরা চেয়েছি সুষ্ঠু বিচার। চিকিৎসকদের মারধরকারীকে এসে ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিকে মরদেহ না পেয়ে সকাল থেকেই মেডিকেল মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন নিহতের স্বজনরা। এতে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মৃত রোগীর স্বজনরা জানান, চিকিৎসক সময়মতো অক্সিজেন না দেওয়ায় রোগী মারা গেছে। এই নিয়ে হাতাহাতি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে অন্য দুই ছেলে মরদেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করলেও ডাক্তাররা অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছিল। তারা শর্ত দিয়েছিল, মারধর করা ছেলেকে হাজির না করলে মরদেহ দেওয়া হবে না।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা ছিল না। রোগীকে একদম শেষ সময়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত্যুর পর রোগীর ছেলে লোকজন নিয়ে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মারধর করে চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হামলার ঘটনার বিচার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মরদেহ আটকে রেখেছিল। পরবর্তীতে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এবং চিকিৎসকদের মারধরের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
