logo
Advertisement

পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি চরাঞ্চলের মানুষের

পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি চরাঞ্চলের মানুষের
পদ্মার পানি কমলেও স্বাভাবিক হয়নি চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা কয়েক দিন বাড়ার পর রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনো কাটেনি বন্যার শঙ্কা। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় দুর্ভোগে রয়েছেন হাজারো মানুষ। কোথাও বসতঘরে পানি ঢুকেছে, কোথাও তলিয়ে গেছে ফসলের জমি ও চলাচলের রাস্তা।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ১৭ দশমিক ২৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে রাজশাহীর চর খানপুর, চর খিদিরপুর ও মাজারদিয়াসহ বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। একের পর এক বসতঘর প্লাবিত হয়। কোথাও উঠান ডুবে যায়, আবার কোথাও ঘরের মেঝে পর্যন্ত পানি উঠে আসে। পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি— পানি কমলেও চর খানপুর, চর খিদিরপুর ও মাজারদিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি। এরমধ্যে চর খিদিরপুরের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মাত্র দুটি বাড়ি ছাড়া এলাকার প্রায় সব বসতবাড়িই পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক হয়নি যোগাযোগব্যবস্থা। কোথাও ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি থেকে পানি পুরোপুরি সরে যায়নি। ফলে পানি আরও কমে নদী স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, পদ্মায় এরই মধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। দ্রুত পানি আরও কমে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে উজানে বৃষ্টিপাত হলে পানি আবারও বাড়তে পারে। যদিও এ মুহূর্তে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।