কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুষ্কৃতকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত স্তম্ভটিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নাম উল্লেখ করে ‘হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এ ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ঘটনার সময় মাত্র কয়েক গজ দূরে পুলিশের পাহারা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুষ্কৃতকারীরা এভাবে প্রকাশ্যে অগ্নিসংযোগ চালিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ল, তা নিয়ে কুষ্টিয়াজুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে উঠেছে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার তীব্র অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার মধ্যে স্টেডিয়ামের মতো সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে এমন নাশকতা ঘটতে পারে? প্রশাসনের এই ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হাসান বলেন, আমরা সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ধারণা করা হচ্ছে, রাত সাড়ে চারটার দিকে এই আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশকে আগে বলা হলেও তারা বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এদিকে প্রশাসনের এই ভূমিকাকে সরাসরি ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসী চক্র এসব ঘটাচ্ছে। এর আগেও একাধিক আশঙ্কাজনক বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হলেও তারা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে ‘জুলাই যোদ্ধা পরিবার’ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব রবিউল পারভেজ রাহুল বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার মতো হীন ও ধিক্কারজনক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা শহীদ ও আহতদের স্মৃতিকে অবমাননা করেছে, তারা কোনো ছাড় পেতে পারে না। জুলাইয়ের রক্তস্নাত স্মৃতি নিয়ে কোনো ধরনের নোংরা রাজনীতি বা নাশকতা আমরা বরদাশত করব না।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন যেন নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা দ্রুততম সময়ে এই অগ্নিসংযোগকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সেখানে আমাদের পুলিশ পাহারায় ছিল। ঘটনাটি আমরা আগেই জেনেছি এবং আমাদের কর্মকর্তারা বর্তমানে ঘটনাস্থলে আছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)


-b080d2.jpg)