ফরিদপুর/শিশু মাহফুজা হত্যা: ১৮ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় সাত বছরের শিশু মাহফুজা হত্যার ১৮ দিন পার হলেও মামলার প্রধান আসামি বাবলু শেখ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর তাদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগ করেছেন আসামির স্বজনরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নিহতের পরিবার। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি বাবলু শেখের মেয়ে কামনা আক্তার জানান, শিশু হত্যার বিষয়ে আদালত যে রায় দেবেন, তা তারা মেনে নেবেন। ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই প্রতিপক্ষ তাদের পরিবারকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এমনকি তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্তের স্বজন হামিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আমাদের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। গোয়ালঘরের গবাদিপশু, ঘরে থাকা পেঁয়াজ, পাট, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের পরিবার। হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের বাবা ইদ্রিস আলী মোল্লা বলেন, মেয়ে হত্যার ১৮ দিন পার হলেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। অবিলম্বে প্রধান আসামিসহ বাকিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের বিষয়ে তিনি জানান, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তাদের জানা নেই এবং তাদের পরিবারের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নন।
নিহতের বড় বোন আদুরী আক্তার বলেন, আমার ছোট বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বজন হারানোর শোকে পুরো পরিবার এখনও স্তব্ধ। অথচ আসামিপক্ষের লোকজন উল্টো আমাদের হুমকি দিচ্ছে। হামলা ও লুটপাটের যে অভিযোগ তারা করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, প্রধান আসামিসহ অন্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর আসামিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



