logo

অসচেতনতায় যশোরে বাড়ছে হাম, ২ মাসে আক্রান্ত দুই শতাধিক শিশু

অসচেতনতায় যশোরে বাড়ছে হাম, ২ মাসে আক্রান্ত দুই শতাধিক শিশু

যশোরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত দুই মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশির ভাগই টিকা নেয়নি।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে যশোর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘ সারি। কেউ এসেছেন হাম শনাক্ত করতে, কেউ আবার বসন্ত সন্দেহে পরীক্ষা করাতে।

শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুন তার ১৫ মাস বয়সি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, জ্বর ও শরীরে লাল দাগ নিয়ে তার মেয়েকে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত। তিনি বলেন, “টিকার কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, মণিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাস জানান, তার আট মাস বয়সি মেয়ের জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হামের সন্দেহে শিশু হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি মেয়েকে ভর্তি করেন।

শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ সাইদা সুলতানা জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে হামের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। দুই মাসে অন্তত ৯০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, অধিকাংশ শিশুই টিকা না নেওয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সৈয়দ নূর-ই হামিম বলেন, হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। তবে অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ হার কমানো সম্ভব।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী জানান, গত তিন মাসে ৪৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল এবং তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা বলেন, সারা দেশেই হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, যশোরও তার বাইরে নয়। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং জেলায় টিকার কোনো ঘাটতি নেই।