Advertisement

সোনালি আঁশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষিদের

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
সোনালি আঁশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষিদের
পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত চাষিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের মতলবসহ প্রায় সব উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। মাঠজুড়ে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্যে প্রাণ ফিরলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় চাষিদের মুখে হাসি নেই।

Advertisement

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে এবার পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজারদরে লাভের মুখ দেখছেন না অধিকাংশ কৃষক।

পাটচাষি মো. ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, ৪০ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করতে তার ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পাট কাটার শ্রমিকদের দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এত ব্যয়ের পর বর্তমান বাজারদরে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত চাষিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত চাষিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তিনি অভিযোগ করেন, বাজার সম্পর্কে অনেক কৃষকের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করছেন। এই সুযোগে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে পাট কিনে মজুত করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট চার হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে মৌসুমের শুরুতেই পাটের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হলে তারা ন্যায্যমূল্য পেতেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসত।

কৃষক সোলেমান হোসেন বলেন, এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। ধারদেনা করে পাট চাষ করেছি। এখন বাজারদর ভালো পেলে আর লোকসান হবে না।

কচুয়া এলাকার অধিবাসী হাবিব উন নবী সুমন বলেন, এবার কচুয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত পাটের মূল্য বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, কার্যকর বাজার তদারকি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কৃষকেরা আরও বেশি পাট চাষে আগ্রহী হবেন। এতে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ খাতও আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিষয় :