logo
Advertisement

সরকারি চিঠিতে ভুল বানানের ছড়াছড়ি, ‘তাড়াহুড়োর’ অজুহাত ক্রীড়া কর্মকর্তার

সরকারি চিঠিতে ভুল বানানের ছড়াছড়ি, ‘তাড়াহুড়োর’ অজুহাত ক্রীড়া কর্মকর্তার
কুষ্টিয়ায় দাবা খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসের দেওয়া ভুল বানানের চিঠি। ছবি : ফেসবুক

কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জেলা পর্যায়ের দাবা খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসের দেওয়া একটি সরকারি চিঠিতে একাধিক বানান ও বাক্যগত ভুলের অভিযোগ উঠেছে। অফিসিয়াল প্যাডে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ক্রীড়া অফিসার তানভীর হোসেন এশিয়া পোস্টকে চিঠিতে ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

জানা গেছে, ক্লাবভিত্তিক দাবা প্রতিযোগিতার জন্য জেলার বিভিন্ন ক্লাবকে চিঠি দেয় জেলা ক্রীড়া অফিস। গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা ক্রীড়া অফিসার তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পর্যায়ে রেটিং অনুযায়ী ‘দাবা খেলোয়াড় বাছাই-২০২৬’ আয়োজনের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের ডরমিটরি ভবনে দুই দিনব্যাপী এ বাছাই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

চিঠির বিভিন্ন অংশে বানান ও ভাষাগত অসংগতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি শব্দের বানান এবং বাক্য গঠনে ভুল রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করছেন অনেকে। এ ছাড়া চিঠির শেষাংশে দাবা খেলোয়াড়দের যোগাযোগের জন্য যেসব নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোও অসম্পূর্ণ ও অস্পষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাছাই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইচ্ছুক খেলোয়াড়দের ‘রাজু, ফোন ও মধু’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে তাদের পূর্ণ নাম, পদবি বা পরিচয় উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খেলোয়াড় ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, একজন ক্রীড়া কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক বানান ও ভাষাগত ভুল থাকা দুঃখজনক। খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি সরকারি নথির ভাষা ও তথ্যের নির্ভুলতার বিষয়েও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এস এম রাসেল হাসান বলেন, ক্রীড়া অফিসারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও অন্তত একটি চিঠিতে বাংলা বানান ভুলের প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। দাবা খেলতে আগ্রহী খেলোয়াড়দের যোগাযোগের জন্য শুধু নাম উল্লেখ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণ নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হলে বিভ্রান্তি এড়ানো যেত।

কবি ও লেখক কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, একটি সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল প্যাডে প্রকাশিত চিঠিতে একাধিক বানান ভুল থাকা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধেরও প্রশ্ন তোলে।

চিঠিতে ভুল থাকার বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, আমি স্বাক্ষর করার সময় দেখেছি। কিন্তু চিঠিটি দাবা সংস্থার সভাপতি রাজু সাহেব এমন সময়ে নিয়ে এসেছিলেন, যখন আমার অফিস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দ্রুত দেওয়ার প্রয়োজন থাকায় স্বাক্ষর করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে আমি আরও সতর্ক থাকব। যেকোনো চিঠি দেওয়ার আগে নিজে কম্পিউটারে বসে সংশোধন করে তারপর স্বাক্ষর করব।

চিঠিতে উল্লেখ করা দাবা সংস্থার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।