নরসিংদীতে বিষপানে মা-মেয়ের মৃত্যু, বাবা আটক

নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্য বিষপান করেছেন। এতে মা ও তার পাঁচ বছর বয়সি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আড়াই বছর বয়সি ছেলেসন্তান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় শিশুর বাবা মিলন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি জানান, এর আগে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন—উর্মি (২২) ও তার পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে মিম। চিকিৎসাধীন শিশুটির নাম আবির হোসেন (আড়াই বছর)। উর্মির স্বামী মিলন পেশায় একজন গাড়িচালক। তারা মাধবদী থানার বসুন্ধরা কান্দাপাড়া এলাকার শেফালী বেগম নামের এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উর্মি ও তার স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। এর জের ধরে উর্মি তার দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে তিনি হারপিক জাতীয় বিষাক্ত তরল পান করেন এবং তার দুই শিশুসন্তানকেও পান করান। এতে তিনজনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঘটনার পর স্বামী মিলনকে আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক মিলনকে আজ দুপুরে নরসিংদীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।



