Advertisement

ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফরিদপুর
ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
মৃত গৃহবধূ সুমাইয়া শিমু। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার শৈলমারী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে সুমাইয়ার স্বামী মো. জসীম কাজী পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুমাইয়া শিমু শৈলমারী গ্রামের মো. মোস্তফা শেখের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার স্বামী জসীম কাজী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ২০১৮ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির ৬ বছরের নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। শুক্রবার দুপুরের দিকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর সুমাইয়া পাশের পাকুড়িয়া গ্রামে তার মেজ বোনের বাড়িতে ছেলেকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে আসেন। পরে তাকে কোথাও পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সুমাইয়ার ছোট বোন মিম খাতুন অভিযোগ করে বলেন, জসীম কাঠমিস্ত্রির কাজ করলেও নিয়মিত কাজ করতেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং জসীম বাড়ির কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, জানতে পেরে তারা সুমাইয়াকে খুঁজতে বলেন। জসীম বলেছিলেন, ‘সুমাইয়া বাড়িতে আসুক, পেট্রোল এনে ঘরে আগুন দিয়ে সব জ্বলিয়ে দেব।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, মাগরিবের আগে জসীমের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা দেওয়া দেখতে পান তারা। সন্ধ্যার দিকে জসীম ফোন করে সুমাইয়ার এক স্বজনকে জানান, সুমাইয়া গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে গিয়ে সুমাইয়ার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে শাড়ির ছেঁড়া পাড়ের অংশ দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান।

তাদের দাবি, লাশটির পা মেঝেতে ঠেকে ছিল। এ অবস্থায় তারা সুমাইয়ার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সুমাইয়ার আরেক বোন মোছা. সুরাইয়া বলেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনার আগে সে ছেলেকে বোনের বাড়িতে রেখে এসেছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

মা হাবিবা বেগম বলেন, সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে। বিকেল থেকে আমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছিল না। জসীমের বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল। পরে কীভাবে আমার মেয়ে ওই ঘরে গেল, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্ন। আমরা মনে করছি, তাকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আল আমিন বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এটিকে হত্যা বলে দাবি করছেন। তারা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।