logo

বিএনপি নেতার পাম্প থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব

বিএনপি নেতার পাম্প থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাম্পের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় মামলার পর আদালতের নির্দেশে পাম্পের ওই ম্যানেজারকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজেদুল ইসলামের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির।

মো. জলিল হোসেন রিফাত গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন সোয়াদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান। তিনি বলেন, আফসারুল ইসলাম নামের একজনের বাদী হয়ে করা মামলায় মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলে গৌরীপুর থানা-পুলিশ। এ সময় বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১, ২ ও ৪ এপ্রিল ভৈরব বাজার (কিশোরগঞ্জ) ডিপো থেকে মোট ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে আনা হয়। এরপর ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রোল মজুত করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল স্টেশনে থাকার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাগজপত্র যাচাই করে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল আনার সত্যতা পায়। পরে ম্যানেজারের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ সময় তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার রাতেই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় পাম্পের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত ও মালিক গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে আসামি করা হয়।

এদিকে বুধবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক বলেন, পাম্পে তেল না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র ম্যানেজারের হিসাব সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে না পারার অভিযোগে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাম্পের মালিক হাফেজ আজিজুল হকও আসামি। তিনি ঢাকায় আত্মগোপনে আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।