logo

এনসিপির খুলনা কমিটি ঘোষণা, পদ পেয়েই পদত্যাগের ঘোষণা বাবুলের

এনসিপির খুলনা কমিটি ঘোষণা, পদ পেয়েই পদত্যাগের ঘোষণা বাবুলের
মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা জেলা ও মহানগর শাখার তিন মাসের জন্য আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল।

তার অভিযোগ, তার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা মতামত না নিয়েই এই পদে নাম বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে প্রায় ২০০ নেতাকর্মী পদত্যাগ করছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা জেলা ও মহানগর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। বিজ্ঞপ্তিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত জেলা কমিটিতে হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহকে আহ্বায়ক ও আরিফুজ্জামান উজ্জ্বলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আর মোল্লা শওকত হোসেন বাবুলকে করা হয়েছে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. হাসানুর রহমান এবং যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আবদুল্লাহ আল মামুনকে। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন জায়েদুর রহমান প্রিন্স, মো. আবু শাহাদাত বাবুল ও মো. কদরুল হাসান।

অন্যদিকে মহানগর কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে আহম্মদ হামীম রাহাতকে এবং সদস্যসচিব হয়েছেন ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে এস এম আরিফুর রহমান মিঠু ও গাজী শরিফুল ইসলাম ওহিদকে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন শরীফ বদরুদ্দোজা মো. সাদী।

মহানগর কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে রাফসান রফিক ওশান ও ফরিদ আহমেদ পাঠানকে। আর যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েছেন মিজানুর রহমান নোভা। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শামসুল আরেফিন চৌধুরী লিওন, সাইফ নেওয়াজ ও ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল।

কমিটি প্রকাশের পর সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার শিববাড়ী মোড়ে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল।

তিনি বলেন, আমার মতামত না নিয়েই জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।

তিনি আরও বলেন, পদের প্রতি আমার কোনো মোহ ছিল না, এখনও নেই। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে পদ থেকে পদত্যাগ করছি। একই সঙ্গে কমিটি থেকে তার নাম অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটির (আংশিক) 
বিজ্ঞপ্তি। ছবি : এশিয়া পোস্ট
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটির (আংশিক) বিজ্ঞপ্তি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাবুল জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দুই দিন পর তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, খুলনা বিভাগীয় কমিটির সদস্যসচিব এবং খুলনা মহানগর শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

খুলনায় অনাকাঙ্ক্ষিত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমের সিদ্ধান্তকে দায়ী করে বাবুল দাবি করেন, কমিটি প্রকাশের দুই-তিন ঘণ্টা আগেও হোয়াটসঅ্যাপে সারজিস আলমের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্মান বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এবং আহ্বায়ক করা সম্ভব না হলে অন্য কোনো পদে না রাখার কথা স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন।

বাবুল আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে প্রায় ২০০ নেতাকর্মী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করছেন। তবে জেলা পর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের এই পদত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা সংকোচ বোধ করেছেন বলে জানান।

ভবিষ্যতে দলে ফেরা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাবুল বলেন, দল তার দাবি মেনে নিলে বা আলোচনার ভিত্তিতে সম্মানজনক সমাধান হলে বিষয়টি পরে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আপাতত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে নতুন কমিটি ও পদত্যাগের বিষয়ে জেলা কমিটির নতুন আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ বলেন, অনেকেই প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। তবে কেন্দ্র যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেভাবেই কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।