logo
Advertisement

রায়ে সন্তুষ্ট, পরবর্তী ব্যবস্থা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে: নুসরাতের ভাই

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফেনী
রায়ে সন্তুষ্ট, পরবর্তী ব্যবস্থা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে: নুসরাতের ভাই
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। রায়ের বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিম্ন আদালত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। পাঁচজনকে যাবজ্জীবন ও ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে আদালতের রায়ের প্রতি আস্থা রাখছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে, তা আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি দ্রুত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারে বসেই নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। নির্দেশ বাস্তবায়নে ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পাদন শেষে রায় দেন আদালত।