টেন্ডার না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি যুবদল নেতার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধসামগ্রী সরবরাহ কাজের টেন্ডার না পাওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদল ও বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১১ মার্চ) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুর রহমান উত্তেজিত হয়ে আঙুল তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেবকে হুমকি দিচ্ছেন। তার সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সদস্য তোফায়েল আহমেদ লায়নও হুমকি দেন। কয়েক দফায় হুমকি দেওয়ার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাপড় দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি পথ্য সরবরাহের জন্য ইজিপিতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সেখানে টেন্ডার দাখিল করে মেসার্স মেধা কন্সট্রাকশন। মেধা কন্সট্রাকশন কাজটি না পাওয়ায় মঙ্গলবার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য তোফায়েল আহমেদ লায়ন কয়েকজনকে নিয়ে গিয়ে কাজ দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে চাপ দেন। কেন তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়নি, তা জানতে চান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে মানববন্ধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে তারা ৩০ মিনিট কর্মবিরতি পালন করেন। মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ডেন্টাল সার্জন ডা. গোলাম মওলা, ইপিআই কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান, ক্যাশিয়ার বুলবুল আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা হুমকিদাতাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্থায়ীভাবে কর্মবিরতিসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুর রহমান টেন্ডারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছি। কাজ দিতে হবে এ কথা বলা হয়নি। তারা কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পথ্য সরবরাহের কাজ দিয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারসহ আমরা রংপুরে পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেছি। এ সময় উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাপ্পড় দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন এ যুবদল নেতা।
তিনি বলেন, হাসপাতালে টেস্ট, এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলেও হাসপাতালে ব্যবসা করে অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব বলেন, মঙ্গলবার তারা আমার রুমে এসে তাদের মনোনীত ঠিকাদারকে পথ্য সরবরাহের কাজ দেওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি অনলাইন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে বললে তারা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিতে থাকেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক থানা ও ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছি।