শেষ হলো শিশু আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচারের অপেক্ষা

চার বছর আগের এক বিকেল। বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তার। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পাওয়া আসমাকে, তবে জীবিত নয় মৃত। বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংকে পড়ে ছিল তার অর্ধগলিত দেহ। এ ঘটনায় মামলা করেন শিশুটির মো. শাহজাহান।
ঘটনার নয় দিন পর গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত মো. শাহাদাত। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহাদাত জানান, একই বাড়ির শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মরদেহ ফেলে দেন সেপটিক ট্যাংকে।
চার বছর পর রোববার (২৪ মে) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার আলোচিত এই ঘটনার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে শেষ হলো বিচারের জন্য শিশুটির পরিবারের অপেক্ষা।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর চাটখিলজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আসামির ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন।
আসমার বাবা মো. শাহজাহান বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, আমার নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আসামি শাহাদাতের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, গত চারটা বছর ধরে আমরা বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। আদালতের কাছে আমাদের একটাই দাবি–দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সেলিম শাহী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে আদালত আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।
