মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার এএসআই আজিজুল হকসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন।
লিখিত অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি চৌরাস্তা এলাকায় একটি প্রেস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কোনাবাড়ী রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে একটি অটোরিকশা থেকে নেমে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় পেছন একটি অটোরিকশা এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তল্লাশির আগে চড় মারা হয়। একপর্যায়ে তার সামনে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। পরে নগদ ২৮ হাজার টাকা ও বিকাশে থাকা আরও ৫ হাজার টাকা নেন ওই পুলিশ সদস্যরা।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি চৌরাস্তার দোকান থেকে বাড়িতে ফিরছিলাম। সিএনজি থেকে কোনাবাড়ী রুবেল পাম্পের সামনে নামলে পেছন থেকে টহলরত তিনজন পুলিশ সদস্য একটি আমার কাছে আসে। আমাকে বলে অটোরিকশায় উঠতে। আমি জানতে চাইলে ধমক দিয়ে উঠিয়ে হরিণাচালা এলাকায় নিয়ে যায়।
এরপর আমাকে বলে তুই মাদক ব্যবসা করিস। টাকা চেয়ে বলে যদি না দিস, তাহলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেব। এই বলে পুলিশ পকেট থেকে মাদক বের করে। পরে ভয় পেয়ে আমার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা দিয়ে দিই। এরপর আমার বিকাশ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ছিল, সেটিও দিই। পুলিশ সদস্য আজিজুল ছাড়াও আরও দুজন পুলিশ সদস্য ও একজন অটোরিকশাচালক সঙ্গে ছিলেন।
দেলোয়ার আরও বলেন, ওই পুলিশ সদস্য এরপর আমার স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে টাকা আনতে বলেন। পরে আমাকে বলেন, বিকাশে টাকা আনতে হবে, না তোর বাড়িতে যাব? পরে বাড়িতে এসে আরও আট হাজার টাকা দিই। পরে তারা এই টাকা দেওয়ার কথা কাউকে বললে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে চলে যান।
পরে বিষয়টি কয়েকজনকে জানালে তারা থানায় জানান। রাত ২টার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য বাসায় আসেন। তারা বলেন ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে, এ বিষয়টি আর কাউকে না বলতে। এরপর তারা আমাকে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেন।
এরপর এলাকার লোকজন নিয়ে এসে আজ দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন দেলোয়ার।
এ বিষয়ে জানতে এএসআই আজিজুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।