কর্মসংস্থানের বদলে চাঁদাবাজি নিশ্চিত করেছে বিএনপি: হাসনাত আব্দুল্লাহ

নির্বাচনের আগে বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশে সেই কর্মসংস্থান হয়নি। বরং সিএনজি স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও হাট-বাজারে চাঁদাবাজি নিশ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। আপনারা কি কোনো কর্মসংস্থান পেয়েছেন? আমার কোনো ভাই কি চাকরি পেয়েছে? বিএনপি অবশ্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে, সেটি সিএনজি স্টেশনে, বাস স্টেশনে ও হাটে-বাজারে চাঁদাবাজি।
বিএনপির বিরুদ্ধে দেশকে আবার ‘হাওয়া ভবন’-কেন্দ্রিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের পর ‘ভাই-ব্রাদার গ্রুপ’ ও ‘লন্ডন গ্রুপ’ দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারেক রহমান ১০০ টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার খাবেন, আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা দেশটাকে লুটেপুটে খেয়ে বিদেশে পালানোর প্রস্তুতি নেবে।
মেগা প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার মেগা প্রকল্পে যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মেগা প্রকল্প ও ‘মেগা দুর্নীতির’ দিকে যাচ্ছে। যেখানে ভারতে ৪০০ কোটি টাকায় এক কিলোমিটার মেট্রোরেল করা যায়, সেখানে বাংলাদেশে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মেট্রোরেলের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নের পরিবর্তে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে।
বগুড়ার উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, গত ছয় মাসে কয়েকটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন ছাড়া বগুড়ায় কী পরিবর্তন এসেছে, তা মানুষ জানতে চায়। কোনো মিল-কারখানা বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে কি না এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন চালু হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, থানার ওসি হতে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সালাউদ্দিন আহমেদেরও সমালোচনা করেন তিনি।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, আমরা শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন চাই নাই, আমরা বাংলাদেশের পরিবর্তন চেয়েছি, রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তন চেয়েছি। আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আবার রাস্তায় নেমে আসতে হবে।”
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

