logo
Advertisement

টাঙ্গাইল শহরে অচল সিসি ক্যামেরা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

মাসুদ কাউছার, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল শহরে অচল সিসি ক্যামেরা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই
টাঙ্গাইল শহরে বিদ্যুতের তারের জঞ্জালের মাঝে ঝুলে থাকা অচল সিসি ক্যামেরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টাঙ্গাইল শহরে অপরাধ দমনে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার অধিকাংশই এখন অচল। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলোর বেশির ভাগই এখন অকেজো। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পৌর বাসিন্দারা। তাদের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি না থাকায় শহরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের বিস্তার বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, একসময় শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা চালু থাকায় অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করা যেত এবং অপরাধের হারও কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্যামেরা নষ্ট থাকায় অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। ফলে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও মাদকের আড্ডাসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের নিরালা মোড়, শান্তিগুঞ্জ মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, বেবি স্ট্যান্ড, ডিসি লেক ও পতিতালয় এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব স্থানে দ্রুত আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিশেষ করে পতিতালয় ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকের আড্ডা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ইকবাল হোসেন জানান, টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে একটি কার্যকর সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক অত্যন্ত জরুরি।

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, পূর্বে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল। ফলে কোটি টাকার এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজ অচল হয়ে পড়েছে। তাই পুরোনো ক্যামেরাগুলো সংস্কার, নতুন ক্যামেরা স্থাপন এবং রাতে পুলিশি টহল বৃদ্ধির মাধ্যমে শহরকে নিরাপদ করার জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, নগর নিরাপত্তা জোরদারে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থল পর্যায়ক্রমে এই সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারির অভাবে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও সরাসরি উপকৃত হবেন। সিসি ক্যামেরা কেবল অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহেই নয়, অপরাধ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে নজরদারি বাড়লে অপরাধের প্রবণতাও কমে আসবে।

বিষয় :