শ্বশুরবাড়িতে নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, উদ্ধার করল পুলিশ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় রিতু আক্তার নামে এক নারীকে শিকলে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ওই রিতুকে (২০) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল কাজীর মেয়ে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. জালাল কাজী তার মেয়ে রিতুকে প্রায় দুই বছর আগে সাকরাইল গ্রামের খোরশেদ মাতুব্বরের ছেলে শামুন মাতুব্বরের সঙ্গে বিয়ে দেন। এরপর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। সোমবার সকালে রিতুর বাবা-মা মেয়ের খোঁজ নিতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে ঘরের ভেতর শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।
এ সময় মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে রিতুর স্বামী শামুন মাতুব্বর, তার বাবা খোরশেদ মাতুব্বর, বড় বোন লিপি আক্তার ও ছোট বোন নিপা আক্তার তাদের ওপর হামলা চালান এবং মারধর করে আহত করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নগরকান্দা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় রিতুর শ্বশুর খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
রিতু আক্তারের চাচা সৈয়দ আলী বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) খোরশেদ মাতুব্বর আমাদের বাড়িতে এসে জানান, আমাদের মেয়েকে জিনে ধরেছে। তাকে যেন নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে আমার ভাই-ভাবিসহ কয়েকজন তাকে আনতে গিয়ে দেখেন রিতুকে তিন দিন ধরে খাবার না দিয়ে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আমরা এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিতু আক্তারের স্বামী শামুন মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর শ্বশুর খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করা হয়েছে।