বান্দরবানে অস্ত্রের মুখে রাবার শ্রমিককে অপহরণ

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ডিসি রোড এলাকা থেকে বিদ্যাচন্দ্র ত্রিপুরা (৪২) নামে এক রাবার শ্রমিককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারে নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। স্বামীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানিয়েছেন অপহৃতের স্ত্রী হামতি ত্রিপুরা।
লামা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যাচন্দ্র ত্রিপুরা ও তার স্ত্রী হামতি ত্রিপুরা দীর্ঘদিন ধরে হাশেম কোম্পানির রাবার বাগানে (বর্তমানে রুমথুই স্রোর কাছে ভাড়া দেওয়া) শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বিদ্যাচন্দ্র গজালিয়া ডিসি রোড এলাকার শান্তর চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় একটি চাঁদের গাড়িতে (জিপ) করে আসা ১২ থেকে ১৩ জন সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই সময় রুবেল নামে অপর এক ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসীরা গাড়িতে তুলে নেয়। তবে কিছুদূর যাওয়ার পর ভুলবশত তুলে আনা হয়েছে বুঝতে পেরে রুবেলকে ছেড়ে দিলেও বিদ্যাচন্দ্রকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ মিলছে না।
ঘটনার পরপরই স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
অপহৃতের বড় ভাই গঙ্গা চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আমার ভাই একজন নিরীহ রাবার শ্রমিক। তিনি কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নন; দিন এনে দিন খান। তাকে দ্রুত জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিদ্যাচন্দ্রের স্ত্রী হামতি ত্রিপুরা বলেন, আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার স্বামীকে জীবিত ফেরত চাই। তাকে দ্রুত উদ্ধার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই অপহরণের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাবার শ্রমিকরা জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় একের পর এক অপহরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত অপহৃত শ্রমিককে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, অপহরণের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
.png)


