logo

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা/মামলার তথ্যে গরমিল, নির্ধারিত সময়ে আদালতে ব্যাখ্যা দেননি ওসি

মামলার তথ্যে গরমিল, নির্ধারিত সময়ে আদালতে ব্যাখ্যা দেননি ওসি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

একটি বিস্ফোরক মামলার তথ্যে গরমিল পাওয়ার ঘটনায় নির্ধারিত সময়ে আদালতে ব্যাখ্যা দেননি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মককর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। দুই কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে আদালত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিলেও ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা তা করেননি। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতের কাছে ব্যাখ্যা দেবেন বলে দাবি করেছেন।

গত (২৪ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (সুন্দরগঞ্জ)-এর বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া আদেশটি দেন। আদেশে ওসির সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মমর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানকেও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সুলতান আহম্মেদ নামে এক আসামি আদালতে তার বয়স ৭২ বছরের বেশি বলে দাবি করেন। তিনি লিভার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বলেও জানান।

লিটন মণ্ডল নামে আরেক আসামি দাবি করেন, তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের ফরোয়ার্ডিংয়ে গ্রেপ্তারের সময় বেলা সাড়ে তিনটা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেক আসামি আনিছুর রহমানকে আদালতে আনা হলে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানান।

আদালতের আদেশে বলা হয়, আসামিদের বয়স, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি রয়েছে।

এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করে কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা জানতে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে স্ব-শরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না, তা জানতে তাকেও আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, আসামিরা জামিনের জন্য পেসকারের মাধ্যমে তালবাহানা শুরু করেছে। এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন। আমি মঙ্গলবার গিয়ে ব্যাখ্যা দিব।

মামলার তদন্ত এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর লিখিত জবাব দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ, এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা’র বাড়ির সামনে প্রথম বিস্ফোরণ হয়। দুই মিনিট পর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এবং ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে।

পরপর বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়।

এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ প্রথমে আওয়ামী লীগের শান্তিরাম ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আনছার আলীর ছেলে সুলতান আহম্মেদ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড থানাপাড়ার কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে লিটন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাদের বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হলে বয়স, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদলত

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মামলা কিংবা অন্য কোনও অপরাধের মামলায় প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নজির রয়েছে। এ মামলায়ও তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামিদের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আদালত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব দেওয়া হবে।