logo

‘ভাত নরম অইলে আমারে মারত, গায়ে গরম তেলের ছিটা দিত’

‘ভাত নরম অইলে আমারে মারত, গায়ে গরম তেলের ছিটা দিত’

‘এক বেলার বদলে তিন বেলা ঘর মুছতে কইত আমারে। না মুছলে মারত। বাতটা (ভাত) কেটা (নরম) অইলেই (হলেই) আমারে মারত। গায়ে গরম তেলের ছিটা দিত। আমারে লাঠি দিয়া মারত।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু গৃহপরিচারিকা ফাতেমা (ছদ্মনাম) বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এসব কথা বলছিলেন সাংবাদিকদের। তাকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তী চিকিৎসক দম্পতি মো. নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিন বিকেলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখ্য বিচারিক হাকিম চতুর্থ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম।

পরিবারের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে মেয়ের গত তিন মাস ধরে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। কয়েক দিন আগে জানানো হয় তাদের মেয়ে চুরি করে পালিয়েছে। খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পত্তির বাড়ির পাশ থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

শিশুর পিতা অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে তার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। তার সারা শরীরে অনেক ক্ষতচিহ্ন। তাকে চোর বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক নোমান। সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, মেয়েটি আমার ঘরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে নয়, সন্তানদের খেলার সঙ্গী হিসেবে থাকত। আমার স্ত্রী যখন গর্ভবতী তখন তাকে আনা হয়। দুই বছরের শিশুসন্তানের সঙ্গে সে খেলত।

নোমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি ট্রেনিংয়ের জন্য ফিলিপাইন যান। তার স্ত্রী-সন্তানরা বাসায় ছিল। ২২ এপ্রিল গৃহপরিচারিকা ঘরের আলমারি থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে চলে আসেন। এ বিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় মেয়েটির নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে জেনে নিয়ে আসার জন্য। এরপর তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর বাবা থানায় মামলা করেছেন। চিকিৎসক দম্পত্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই দম্পত্তি শিশুর বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ দেননি।