সাবেক চসিক মেয়র রেজাউল করিমের ‘তিন অনিয়ম’ খতিয়ে দেখছে দুদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলের ‘নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বণ্টন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ তিন স্তরের দুর্নীতির’ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অনিয়মসংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল চসিকের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ। বর্তমান মেয়র চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথি ছাড়াও তার মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ১৮৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র, ঠিকাদারদের বিস্তারিত তথ্য, কার্যাদেশ এবং বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তিনামাও তলব করেছে কমিশন।
‘শ্রমিক’ থেকে একলাফে ‘প্রকৌশলী’
অনুসন্ধানের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সাবেক মেয়রের আমলের বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ২০তম গ্রেডের শ্রমিক পদে নিয়োগ দিয়ে অন্তত ৬৪ জনকে সরাসরি ১০ম ও ১৬তম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং কর আদায়কারী পদে পদায়ন করা হয়েছে। কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই কেবল মেয়র, কাউন্সিলর ও শ্রমিক নেতাদের সুপারিশে এই নিয়োগগুলো সম্পন্ন হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
প্রকল্প পরিচালকের ওপর হামলা ও কার্যাদেশ বিতর্ক
২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি চসিকের আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানীকে ঠিকাদারদের মারধরের ঘটনার নেপথ্যে কাজ ভাগবাঁটোয়ারার বিরোধ ছিল বলে জানা যায়। দুদক এখন ওই সময়ের ২৫টি প্রকল্পের প্রাক্কলন, দরপত্রের ধরন এবং কাজের বর্তমান অগ্রগতির নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বজনপ্রীতি
নগরের চারটি ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের (ডোর টু ডোর) কাজ দেওয়া হয়েছিল মেসার্স পাওয়ার সোর্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট সার্ভিস ও চান্দগাঁও ক্লিনার্স সার্ভিস নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সাবেক মেয়র ও এক প্রভাবশালী ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। এই চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা যাচাইয়েও মাঠে নেমেছে দুদক।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুদকের চিঠি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করব।
২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট তাকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।