সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগ: বাস মালিকসহ সাংবাদিককে করা হয়েছে আসামি

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অকেজো বাসে পেট্রলবোমা মেরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন।
তবে ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও বাসটির স্বত্বাধিকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে সাভারে অবস্থান না করা এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং ও স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডলের নির্দেশে বাসের ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স খুলে রাখা হয়। পরে পরিত্যক্ত ওই বাসটিতে পেট্রলবোমা মেরে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বাসের মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়কে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে কীভাবে বা কী ভূমিকায় সম্পৃক্ত ছিলেন তা স্পষ্ট না করেই টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার ও ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান খানকে করা হয়েছে ১৮ নম্বর আসামি।
মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামরুজ্জামান খান বলেন, গত কোরবানি ঈদের পর থেকে আমি সাভার তো দূরের কথা, গাবতলীও পার হইনি। সাভারে আমার বাড়ি হলেও গত তিন বছর ধরে সেখানে থাকি না, বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি।
এদিকে এজাহারে উল্লিখিত প্রধান সাক্ষীদের পরিচয় ও উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এজাহারে দেওয়া প্রথম সাক্ষী আকাশের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কলটি ধরেন ঝলক নামে এক ব্যক্তি।
নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী দাবি করে ঝলক বলেন, আকাশ আমার এলাকার পরিচিত ছোট ভাই। সে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী মানিকের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাসের মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, আমি এখনই তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে দেব, যাতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে আসামির তালিকা থেকে তার (সাংবাদিকের) নাম বাদ দেওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন, তবে অনুসন্ধানের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআরইউ বিবৃতিতে নিন্দা
এদিকে পেশাদার একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে হয়রানিমূলক মামলায় অভিযুক্ত করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া এভাবে মামলা দেওয়া স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বাসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাসটির ভেতরের অংশ পুড়ে গেছে। তবে গাড়িটি খালি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।