logo
Advertisement

শিক্ষার্থীদের স্লোগান/‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’

‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’
সড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রেবাবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’–মহাসড়ক অবরোধ এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেছেন।

সম্প্রতি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে সারা দেশের মধ্যে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে কুমিল্লা জেলা পুলিশকে পুরস্কৃত করা হয়। গত ২৯ আগস্ট ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীরা ‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সড়কে অবস্থান নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সড়কে অবস্থান নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তারা বলেছেন, একদিকে কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ড ঘটছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সাফল্যের জন্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ কেবল অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এ চিত্র সারা দেশের। কুমিল্লায়ও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। তারপরও না কি পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যায়। আমরা অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, সেটা আমরা আদৌ জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না পর্যন্ত মাথায় নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’

এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতিতে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সেখানে বাসার পাশের কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।

সড়কে অবস্থান নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সড়কে অবস্থান নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালান। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।