logo
Advertisement

পিরোজপুরে জমে উঠছে পশুর হাট

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,পিরোজপুর
পিরোজপুরে জমে উঠছে পশুর হাট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

জমে উঠতে শুরু করেছে পিরোজপুরের কোরবানির পশুর হাটগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, জেলার বিভিন্ন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ততই বাড়ছে। অধিকাংশ ক্রেতাই এখন বাজার ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছেন। বিক্রেতারা বলছে, ছুটি শুরু হওয়ায় আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে বিক্রি বাড়বে।

Advertisement

এবার জেলার সাতটি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২৬টি পশুর হাট বসেছে। হাটগুলোতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গরু-ছাগল উঠেছে। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ—ছোট ও মাঝারি আকারের গরু।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি হাটে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি গরু এবং ১০০ থেকে ১৫০টি ছাগল উঠেছে। বর্তমানে গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। তবে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত।

বিক্রেতারা বলছেন, খামারে পশু লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ভালো দাম প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম এখনও তুলনামূলক বেশি।

জিয়ানগরের খামারি বাদশা হাওলাদার বলেন, ১৯টি গরু হাটে তুলছি, এর মধ্যে চারটা বিক্রি হয়েছে। বাজার মোটামুটি ভালো, তবে আগের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে।

খামারি মো. আলম মোল্লা বলেন, দেশি গরু ঘাস ও ভুসি খাইয়ে লালন-পালন করেছি। গরুর ওজন ১১০ থেকে ১১৫ কেজি হবে। দাম চাচ্ছি ৯৫ হাজার টাকা। বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো।

আরেক খামারি মো. ইয়াছিন শেখ বলেন, সাতটা গরু এনেছি, দুটা বিক্রি করেছি। এবারের বাজার খুব একটা ভালো না, তবে সামনে বেচাকেনা বাড়বে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের বিক্রেতা মো. রফিক খান বলেন, এখন বেচাকেনা কম। আমি পাঁচটা গরু নিয়ে এসে মাত্র একটি বিক্রি করতে পেরেছি। মানুষ সাধারণত কোরবানির দু-একদিন আগে গরু কেনে।

আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ক্রেতা জানান, আপাতত বাজার দেখতে এসেছি। ভালো গরু পেলে কিনব। তবে কোরবানির দু-একদিন আগেই কেনার ইচ্ছা আছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি ছোট-বড় খামার রয়েছে। এসব খামারে এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ২৭ হাজার ৪০৬টি পশু। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৩৮৫টি গরু, ছাগল ১১ হাজার ১০টি, মহিষ ৪১টি এবং ভেড়া ১৮২টি।

চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২১ হাজার ৮৯৯টি। ফলে চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৪১৭টি পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার সিকদার বলেন, হাটে ভারতীয় ও মিয়ানমারের গরু না আসায় স্থানীয় খামারিরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।