logo
Advertisement

যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়িসহ শতশত বিঘা ফসলি জমি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবনা
যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়িসহ শতশত বিঘা ফসলি জমি
ভাঙন থামছে না যমুনা নদীতে। পাবনার বেড়া উপজেলার পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়ন থেকে তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‎পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীতে অব্যাহত ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, জামে মসজিদ ও বসতবাড়ি। এ ছাড়া শতশত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার দাবি স্থানীয়দের।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর, চর সিংহাসন বক্তারপুর ও নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের নেওলাইপাড়া এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাব স্টেশন), মসজিদ, বসতবাড়ি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন দেখা দিলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কল্যাণপুর চর। সেখানে ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভাঙনের স্থানটি স্থানীয় মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ ফুট এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হলেও স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল মাত্র ৫০ ফুট দূরে রয়েছে। ক্যাবলটি ভাঙনের কবলে পড়লে চরের হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এ ভাঙন এখন পুরো এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎স্থানীয়দের দাবি, চলমান ভাঙনে গত একমাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

‎কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা মো. তাইজল ইসলাম বলেন, এক মাসে যমুনা নদীর ভাঙনে আমার প্রায় চার বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েক বিঘা জমি ভাঙনের শিকার হয়েছে। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।

‎তাইজল ইসলামের মতো একই অবস্থা এলাকার আরও অনেক কৃষকের। স্থানীয়দের ভাষ্য, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে মো. শুকুর আলী, মো. কামাল হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেন ও হযরত আলীসহ অসংখ্য কৃষকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেকেই তাদের জমিজমা হারিয়ে প্রায় ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন।

‎‎

নেওলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনার ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। সব সময় মনে হয়, কখন না আবার নদীর পাড় ভেঙে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যায়। আমরা চাই, ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই সরকার দ্রুত নদী রক্ষার কাজ শুরু করে মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গত এক মাসে শুধু কল্যাণপুর চর এলাকাতেই প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এদিকে ভাঙনকবলিত স্থান থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও একটি মসজিদ থাকায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।