logo
Advertisement

১ সেপ্টেম্বর সিলেট-মাস্কাট সরাসরি ফ্লাইট উদ্বোধন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিলেট
১ সেপ্টেম্বর সিলেট-মাস্কাট সরাসরি ফ্লাইট উদ্বোধন
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে ফ্লাইদুবাই। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইনটি। এরপর আট বছরেও সিলেটের এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কোনো এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনায় সম্মত হয়নি। এবার ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে ওমানের বিমান সংস্থা সালামএয়ার।

Advertisement

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বিমানটি সিলেট থেকে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট ছিল না। দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই কয়েক বছর ফ্লাইট পরিচালনা করলেও ২০১৮ সাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি আবারও ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সালামএয়ারের ফ্লাইট চালু হচ্ছে মঙ্গলবার। ওমানের এই বিমান সংস্থাটি সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট সরাসরি সিলেটে নামাবে এবং ফেরত নিয়ে যাবে। সালামএয়ারের পর ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স এখান থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে সালামএয়ার সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সকালে আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি সালামএয়ার কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে।

সালামএয়ারের সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজি জানান, সালামএয়ারের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে এয়ারলাইনটি ৩৮টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ থেকে সালামএয়ার প্রতি সপ্তাহে মোট ২৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ১৪টি, ঢাকা থেকে সাতটি এবং সিলেট থেকে তিনটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

সকাল সাড়ে সাতটায় সালামএয়ারের একটি ফ্লাইট সিলেটে পৌঁছাবে এবং সকাল আটটা ২০ মিনিটে যাত্রী নিয়ে সরাসরি মাস্কাটের উদ্দেশে উড়াল দেবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওমান দূতাবাস ও সালামএয়ারের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ওয়্যারহাউস। নতুন টার্মিনাল ভবনসহ আরও কয়েকটি উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, সৌদি আরব, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্লাইদুবাই আবারও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্লাইট পরিচালনায় নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ট্রাভেল খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইট চালু হতে পারে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরেক এয়ারলাইন্স এয়ার আরাবিয়াও সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতে তাদের ফ্লাইট চালু হতে পারে।

সম্প্রতি ওসমানী বিমানবন্দরে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছালে সিলেট-গুয়াহাটি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারিত হবে।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ সালামএয়ারের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে, তার পূর্ণ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসী বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের দেখে অন্যান্য এয়ারলাইন্সও বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালু করতে উৎসাহী হবে।

বিষয় :