Advertisement

ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ করলেও চলছে হলিহার্ট হাসপাতালের কার্যক্রম

এশিয়া পোস্ট নিউজ, শরীয়তপুর
ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ করলেও চলছে হলিহার্ট হাসপাতালের কার্যক্রম
ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ করলেও কার্যক্রম চলছে হলিহার্ট হাসপাতালের। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও শরীয়তপুরে নির্বিঘ্নে চলছে হলিহার্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম।

Advertisement

প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দাবি, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে সিভিল সার্জন বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে সেটি পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নেই। আদালতের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করতে হবে।

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল শরীয়তপুর সদর উপজেলার তিনটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ডা. এম এ দাউদ জেনারেল হাসপাতাল, ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হলিহার্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

অভিযানকালে, লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে হলিহার্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা এবং এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়া নার্স দিয়ে অপারেশনে সহায়তা করানোর অভিযোগে ডা. এম এ দাউদ জেনারেল হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডা. এম এ দাউদ জেনারেল হাসপাতাল ও ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও হলিহার্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ হয়নি। বরং সেখানে নিয়মিত রোগী দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে বন্ধ হওয়া একটি বেসরকারি ক্লিনিক কীভাবে আবার স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে হলিহার্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হেমায়েত হোসেন লাভলু খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় ম্যানেজার ছিলেন না। এ কারণে তাদের কাছে কাগজপত্র দেখাতে পারিনি। এজন্য তারা ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রেখে সিভিল সার্জনকে কাগজপত্র দেখিয়ে পুনরায় কার্যক্রম চালানোর কথা বলেন। তাদের কথামতো আমরা সিভিল সার্জনকে কাগজপত্র দেখিয়ে নিয়মিত ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি নেই।

তবে প্রতিষ্ঠানটির এমন দাবি অস্বীকার করেছেন শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল আমরা অভিযান চালিয়ে তিনটি বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধ করি। আমরা জানি, এগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হলে পুনরায় আদালতের মাধ্যমেই তা চালু করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন অফিসের অনুমতি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করলে পুনরায় অভিযান চালিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একই দিনে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে পুনরায় কার্যক্রম চালাচ্ছে এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বিষয় :