Advertisement

গোপনে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ জাল, বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঝালকাঠি
গোপনে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ জাল, বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ
নলছিটির মালিপুর এলাকার একটি খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন জেলেরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারি জাল। এ জালে শুধু মাছই নয়, আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে মাছের ডিম, রেণু ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী। পরিবেশবাদী, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যসংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব চরম সংকটে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নলছিটি পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গোপনে বিক্রি হচ্ছে এই নিষিদ্ধ জাল। অনেক মৎস্য শিকারি দীর্ঘ সময় পানিতে জাল ফেলে রেখে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, একসময় কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সেই ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চায়না দুয়ারি জাল। এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু, ডিম ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। অনেকে এই জাল পানিতে ফেলে মাসের পর মাস আর তোলেন না, ফলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের বাজারগুলোতে এখন আগের মতো দেশীয় মাছ চোখে পড়ে না। ইতোমধ্যে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে, বাকিগুলোও হুমকির মুখে। দেশীয় মাছের অভাব মেটাতে বাজারে হাইব্রিড মাছের আধিপত্য বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

তিনি এই নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারি জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া এর দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এটি বেছে নিচ্ছেন। দেশীয় জাল দ্রুত পচে যায় বলে বারবার তুলে শুকাতে হয়; কিন্তু চায়না দুয়ারি জাল মাসের পর মাস পানিতে রেখেই মাছ ধরা সম্ভব।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে, পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সারা বছরই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজবী আহমেদ সবুজ জানান, চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ এবং এর ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। মৎস্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :ঝালকাঠি