logo
Advertisement

সোনালী আঁশে স্বপ্ন বুনছেন বাগেরহাটের পাটচাষিরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,বাগেরহাট
সোনালী আঁশে স্বপ্ন বুনছেন বাগেরহাটের পাটচাষিরা
কাঁচা পাট রোদে মেলে দিচ্ছেন এক কৃষক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে এবার সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও উন্নত বীজ ব্যবহারে ফলন হয়েছে আশানুরূপ। একই সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মনে। দীর্ঘদিনের লোকসানের শঙ্কা কাটিয়ে পাট চাষে আবারও লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

Advertisement

উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন সোনালী আঁশের সমারোহ। উদয়পুর, কোদালিয়া, চুনখোলা, গাংনী ও গাওলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে পাটের ফলন হয়েছে ভালো। মাঠ থেকে পাট কেটে নদী-নালা ও জলাশয়ে জাগ দেওয়া, পচানো এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের গুণগত মানও ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় পাটের গাছ হয়েছে লম্বা ও সবল। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তাঁরা।

জাগ দেওয়ার পর পাটখড়ি থেকে আলাদা করা হচ্ছে পাটের আঁশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
জাগ দেওয়ার পর পাটখড়ি থেকে আলাদা করা হচ্ছে পাটের আঁশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মোল্লাহাটের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। পাটের দাম এমন ভালো থাকলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে পাট চাষ করব।

আরেক কৃষক হরিপদ দত্ত বলেন, পাট চাষে এবার খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় সেটা পুষিয়ে যাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি। পাটের দাম এভাবে থাকলে কৃষকরা আবারও পাট চাষে আগ্রহী হবেন।

কৃষক মনিরুল বলেন, পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এবার পাটের গাছ ও আঁশের মান ভালো হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় পরের মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট আবাদ করার পরিকল্পনা করছি। আগে পাটের দাম নিয়ে অনেক সময় লোকসানের আশঙ্কায় থাকতে হতো। এবার ফলন ও দাম—দুটিই ভালো হওয়ায় সেই চিন্তা অনেকটাই কমেছে। কৃষকের জন্য পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯২০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর, কোদালিয়া, চুনখোলা, গাংনী ও গাওলা ইউনিয়নে পাটের আবাদ ও ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সময়মতো সার ও পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সহযোগিতা দেওয়ার ফলে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়াও ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কাঁচা পাট মাথায় করে বাসায় নিচ্ছেন এক কৃষক। ছবি: এশিয়া পোস্ট
কাঁচা পাট মাথায় করে বাসায় নিচ্ছেন এক কৃষক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯২০ হেক্টর। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ায় এবার পাটের ফলন ও গুণগত মান ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। পাটের ভালো দাম ও ফলনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বাড়বে এবং সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, পাটের বাজারদর স্থিতিশীল ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ পাটের চাষও ফিরে পাবে নতুন গতি।